রাস্তা বেহাল

এম আনওয়ার উল হক
বৈষ্ণবনগর:
দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য সড়কের মেরামতির কাজ সম্পন্ন হলেও মাত্র চার মাসের মধ্যেই বেহাল চেহারা নিয়েছে রাস্তা। ১৬ মাইল মোড় থেকে বৈষ্ণবনগর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাজ্য সড়কে জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচের চটা। কোথাও আবার বেরিয়ে পড়েছে নুড়ি, তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এর ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেরামতির নামে কাজ হলেও তা আদৌ মানসম্মত ছিল না। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার এই অবস্থা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী গাড়ি চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জল জমে গর্তগুলো চোখে না পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের জন্য এই রাস্তা কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় ঘোষ বলেন, “মাত্র চার মাসও টিকল না নতুন রাস্তা। প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছি। এভাবে নিম্নমানের কাজ হলে ভুগতে হবে সাধারণ মানুষকেই।”
আর এক বাসিন্দা রমেন মন্ডল জানান, “রাজ্য সড়কের এমন অবস্থা খুবই দুঃখজনক। বাইক বা সাইকেল নিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তা খারাপ থাকার কারণেই মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটছে।”
গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সবিতা চৌধুরী বলেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তার এই অবস্থা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে কাজের গুণগত মান ঠিক ছিল না। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে বৈষ্ণবনগরের বিডিও সুকান্ত সিকদার জানান, “রাস্তা খারাপ হওয়ার কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে।”
যদিও ঠিকাদারি সংস্থার সুপারভাইজার আসরাউল শেখের দাবি, “কেন পিচের চটা উঠে গেল তা বলতে পারছি না। তবে শিডিউল অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে।”
এদিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ মেরামতির পাশাপাশি নিম্নমানের কাজের দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তার গুণগত মান পরীক্ষা করে স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।